সেলিম আলি Photo source: Wikipedia 
 জন্মের একবছর পর বাবা ও ৩ বছর পর মা হারা এক শিশু সেলিম আলি। বড় হয় চাচা আমিরউদ্দিন তয়ইব্জি ও সন্তানহিন চাচী হামিদা বেগমের কাছে৷ কিশুর বয়সে সেলিম আলি বই পড়া, পাখি শিকার করা ও শুটিং গেমসে আসক্ত ছিলেন।


১৯০৮ সালে সেলিম আলি একদিন তার গুলিতে কাবু করলেন এক চড়ুই পাখি। এর মাংস হালাল কিনা তা জানতে ছুটে আসেন চাচা আমিরূদ্দিনের কাছে। চাচা আমির উদ্দিন ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির  আদি সদস্যের একজন। তিনি সেলিমকে পাঠিয়ে দিলেন সোসাইটির সেক্রেটারি স্যামুয়েল নিলার্ডের কাছে। মিলার্ডের সুমিষ্ট ব্যাবহারে মুগ্ধ হন কিশোর সেলিম। মিলার্ডে পাখিটির আইডেন্টিটি নিশ্চিত করে জানান এটা (Petronia xanthocillos) / Yellow throated sparrow বা হলুদ কন্ঠি চড়ুই।
মিলার্ডে সেলিম আলির পাখি শিকারের ব্যাপারটা উৎখাত করতে সেলিম আলিকে তার পাখির সংগ্রহশালা দেখালেন। সেখানে ছিল নানান ধরনের চড়ুই পাখির স্টাফ করা মর দেহ। সেদিন থেকে সেলিম আলির জীবনে শুরু হল আরেক নতুন অধ্যায়। তিনি উপলব্দি করলেন শুধু শুধু পাখি মেরে খাওয়ার কি দরকার? রঙ্গিন ডানার এই পাখিগুলুকে আকাশেই ভাল মানাই। কারো খাবার প্লেটের তরকারি হিসেবে না। জন্ম নেয় পাখি ও প্রকৃতির প্রতি অগাত ভালবাসা। মিলার্ডে সাহেব সেলিমকে উৎসাহিত করেন পাখিদের একটি সংগ্রহশালা সৃষ্টি করতে সেই সাথে শিক্ষা দেন কিভাবে মৃত পাখিদের চামড়া ছাড়াতে হয় ও সংরক্ষণ করতে হয়।
বস্তুত তাকে একজন বিখ্যাত পক্ষিবিদ হতে মূল ভূমিকা রাখে এই চড়ুই। জীবনের প্রথম দিকে যে বালক পাখি শিকারের বই পড়ত ও পাখি শিকারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করত পরিণত বয়সে এসে যে একজন পক্ষীবিদ হবেন তা অনেকটা অভাবনীয়। তিনিই সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে পক্ষীচর্চার ইতিহাস গড়ে তুলেন।